
জীবনযাত্রায় শত্রুর মুখোমুখি হওয়া অপ্রত্যাশিত নয়। ইসলাম আমাদের শেখায়—যেকোনো বিপদে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)
নবীজি (সা.) শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ দুটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।
১. শত্রুর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তার দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফি নুহুরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরুরিহিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় আপনাকে যথেষ্ট ভাবছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
সূত্র: হজরত আবু বুরদা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষতির আশঙ্কা করলে এই দোয়া পড়তেন। (সুনান আবু দাউদ: ১৫৩৭)
২. শত্রুর মনে ভয় সৃষ্টির দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، سَرِيعَ الْحِسَابِ، مُجْرِيَ السَّحَابِ، هَازِمَ الْأَحْزَابِ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাব, সারী‘আল হিসাব, মুজরিয়াস সাহাব, হাযিমাল আহযাব। আহজিমহুম ওয়া যালযিলহুম।
অর্থ: হে আল্লাহ! শত্রুবাহিনীকে পরাজয় দান করুন এবং তাদের মধ্যে কম্পন সৃষ্টি করুন।
সূত্র: তাবরানি (৯৮৯) – এই দোয়া পড়লে আল্লাহ শত্রুর মনে ভয় সৃষ্টি করেন।
ব্যবহারবিধি:
বিপদের আশঙ্কা হলে দিনে ৩ বার পড়া।
নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করুন।
জরুরি অবস্থায় ৭ বা ১১ বার পাঠ করা যেতে পারে।
দোয়া আগে হামদ, ইস্তেগফার ও দরুদ পড়লে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দোয়া:
আরবি: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করছি; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই। (তিরমিজি: ৩৪২৬)
শেষ কথা, নবীজি (সা.) শেখানো এই দোয়াগুলো আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিয়মিত পড়ুন, আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
সিএনআই/২৫