
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ বুকের মধ্যে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর পেছনে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক কারণ থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ব্যথার উৎস মূলত তিন ধরণের হতে পারে:
হার্ট অ্যাটাক: হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বুকে প্রচণ্ড চাপ বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
অ্যাঞ্জাইনা: ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে হঠাৎ ব্যথা হতে পারে।
প্রদাহ: হার্টের আবরণে (পেরিকার্ডাইটিস) বা পেশিতে (মায়োকার্ডাইটিস) প্রদাহ হলে শ্বাস নিতে কষ্ট ও বুক ব্যথা হয়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স: পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে এলে বুক জ্বালাপোড়া বা চাপ সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় হার্টের ব্যথার মতো মনে হয়।
ফুসফুসের সমস্যা: ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা (পালমোনারি এম্বোলিজম) বা নিউমোনিয়ার কারণে গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় তীব্র ব্যথা হতে পারে।
পেশির টান: ঘুমানোর পজিশন ঠিক না থাকলে বা আগের কোনো আঘাতের কারণে সকালে ব্যথা হতে পারে।
প্যানিক অ্যাটাক: তীব্র মানসিক চাপ বা ভয়ের কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে বুক ব্যথার সৃষ্টি হয়।
কস্টোকন্ড্রাইটিস: পাঁজরের হাড়ের প্রদাহের কারণেও হার্ট অ্যাটাকের মতো বিভ্রান্তিকর ব্যথা হতে পারে।
যদি বুক ব্যথার পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন:
ব্যথা যদি প্রচণ্ড তীব্র হয় এবং কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী থাকে।
ব্যথার সাথে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব।
ব্যথা চোয়াল, ঘাড় বা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়া।
মনে রাখবেন সব বুক ব্যথাই হার্ট অ্যাটাক নয়, তবে শরীরের দেওয়া এই সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
সিএনআই/২৫