
বর্তমানে অনেক নারী অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভুগছেন। অনেক সময় বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও এর পেছনে থাকতে পারে জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা টিউমার। এটি সাধারণত ক্যানসারজনিত না হলেও সন্তান ধারণে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই সময়মতো সচেতন হওয়া জরুরি।
সাধারণত ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বেশি দেখা যায়। ভয় পাওয়ার কিছু না থাকলেও জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইব্রয়েড হলে অনেকের ক্ষেত্রে অনিয়মিত পিরিয়ড, মাসিকের সময় তীব্র তলপেট ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ, পেট ফোলা কিংবা সহবাসের সময় ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবার কারও ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। অনেক সময় আল্ট্রাসাউন্ড বা সন্তান ধারণে সমস্যার সময় ফাইব্রয়েড ধরা পড়ে।
মূলত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ফাইব্রয়েডের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ এবং পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।
যদিও ফাইব্রয়েড হওয়ার পেছনে নারীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কম, তবে ভুল খাদ্যাভ্যাস উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফাইব্রয়েড ধরা পড়লে নিচের ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো—
সসেজ, বেকন, সালামির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকে প্রিজারভেটিভ ও ক্ষতিকর উপাদান। এগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ওজন বাড়ায়। তাই এসব বাদ দিয়ে টাটকা মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাইরের খাবারের বদলে ঘরে তৈরি খাবারই নিরাপদ।
ফুলক্রিম দুধ, ঘি, মাখন ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফাইব্রয়েড বা পিসিওএস থাকলে এসব খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলাই ভালো।
চিনি, ময়দা ও এসব দিয়ে তৈরি খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং হরমোনজনিত সমস্যা তীব্র করে। এতে মাসিকের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকিও বাড়ে। এর পরিবর্তে গোটাশস্য, ফাইবারসমৃদ্ধ ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতন থাকলে ফাইব্রয়েডজনিত জটিলতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএনআই/২৫