
গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই স্বাস্থ্য সেক্টর কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশাসনের পুনর্গঠনের অংশ হতে পারে, কিন্তু কোনো পূর্ব আলোচনা, অংশীজনের মতামত বা বাস্তব মূল্যায়ন ছাড়াই নেওয়া হওয়ায় বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করবে।
স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ১৬ হাজার কর্মীর মধ্যে ২ হাজার ৬০০ জনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। অনেকের বেতন ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বন্ধ। বিশেষ করে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ৬৩৪ জনের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। জনবল কমে গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন নারী কর্মকর্তা জানান, “আমি ১০ বছরের বেশি সময় জেলা পর্যায়ে কাজ করেছি। ১৭ মাস ধরে বেতন পাইনি। এখন শুনছি, আমাদের বাদ দেবে। এই বয়সে নতুন কাজ পাওয়াও কঠিন।”
সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায়ও পড়েছে। ইতিমধ্যে দেশের ৩৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ১১টি জেলা সদর হাসপাতালে এসব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব কেন্দ্রে স্নায়ুবিকাশগত সমস্যা, মানসিক সমস্যা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, মৃগীরোগ ইত্যাদি বিষয়ে সেবা দেওয়া হতো। এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু সেবা পেয়েছে। সেবার ধারাবাহিকতা থেমে গেলে হাজারো পরিবারের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অতীতে স্বাস্থ্য কর্মসূচির বড় অংশই দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হত। এখন সরকারি অর্থায়ন বেড়েছে, কিন্তু দাতাদের সঙ্গে আলোচনার বাইরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংক, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, ইউএসএআইডি ও জাইকা সহ দীর্ঘদিনের সহযোগীদের বাদ দিয়ে নীতি নির্ধারণ করা কূটনৈতিকভাবেই অসুবিধাজনক এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্য সেক্টর কর্মসূচি থেকে হঠাৎ সরে আসা কোনোভাবেই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের উচিত দ্রুত অংশীজন, দাতা সংস্থা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মাঠপর্যায়ের কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের মতামত নিয়ে আলোচনা করা। ঝুলে থাকা জনবলকে স্থায়ী সমাধান দেওয়া এবং বন্ধ হওয়া সেবা পুনরায় চালু করা জরুরি। জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে না ফেলে একটি টেকসই, জবাবদিহিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া প্রশাসনিক পুনর্গঠন ফলপ্রসূ হবে না।
সিএনআই/২৫