
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রায়ের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল হবে এবং কার্যকর হবে পরবর্তী সংসদ থেকে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন—বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আপিল বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর চতুর্দশ সংসদ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর হবে।

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের মূল পয়েন্টগুলো:
১. পূর্বের রায় বাতিল ও আপিল মঞ্জুর: আদালত আগের রায় বাতিল করে সংশ্লিষ্ট সব আপিল মঞ্জুর করেছেন।
২. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরুদ্ধার: সংবিধানের চতুর্দশ খণ্ডের ২এ অধ্যায় পুনরুজ্জীবিত হলো, যা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত।
৩. কার্যকারিতা শর্তসাপেক্ষ: এটি তখনই কার্যকর হবে যখন ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৫৮খ(১) এবং ৫৮গ(২) অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে।
৪. ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য: পুনরুদ্ধারকৃত বিধানগুলি কেবল ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য হবে; অতীতের কোনো ঘটনার উপর প্রভাব পড়বে না।
২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তনের জন্য নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট আপিল মঞ্জুর হয় এবং বিএনপি, জামায়াত ও পাঁচ নাগরিক আপিল করেন।
শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬, ১১ নভেম্বর। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল; জামায়াতের পক্ষে—মোহাম্মদ শিশির মনির; নাগরিকদের পক্ষে—শরীফ ভূঁইয়া; রাষ্ট্রপক্ষে—অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
সিএনআই/২৫