
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জাতিসংঘকে চিঠি পাঠিয়ে দেশীয় নির্বাচনে সহায়তা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলছে, বাংলাদেশে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং ইউএনডিপি (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) নির্বাচনি সহযোগিতা প্রদান করলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থার ম্যান্ডেট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
শনিবার ঢাকায় পাঠানো চিঠিতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইউএনডিপির স্থায়ী প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বরাবর এই আহ্বান জানান। চিঠিতে বলা হয়, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার আগে নির্বাচন সহযোগিতা স্থগিত রাখা উচিত এবং রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ নিবর্তনমূলক। হাজার হাজার নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক হুমকি, আটক এবং প্রভাবিত হয়েছেন। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
আওয়ামী লীগ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপির ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে বলে, “বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য সত্যিকারের সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনঃস্থাপন জরুরি, যার মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও সব দলের অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।”
দলটি চিঠিতে উল্লেখ করেছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেননি, ফলে দেশের নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। এই তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে এবং দলটি ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকার পতিত হলে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিবেশে প্রশ্ন উঠেছে। হাই কোর্টের রায়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রক্রিয়া জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে আওয়ামী লীগ উল্লেখ করেছে, “শক্তিশালী নির্বাচনি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার গুরুত্ব স্বীকার করি। তবে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মৌলিক স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।”
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, দলটি নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এ বিষয়ে ইউএনডিপির বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
সিএনআই/২৫