
বাংলাদেশের রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির অন্যতম ভরসা বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত নানা সংকটে পড়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মামলার বাড়াবাড়ি, পুরোনো শ্রমবাজারের সংকোচন এবং নতুন বাজারে প্রবেশে ব্যর্থতা এই খাতকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিআইডি ও দুদক মানবপাচার ও মানি লন্ডারিং অভিযোগে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক মামলা যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই করা হচ্ছে, এতে সৎ উদ্যোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতায় লাইসেন্স নবায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়া চুক্তি নিয়েও চলছে বিতর্ক। আগের সরকারের ৭৮ হাজার টাকায় শ্রমিক পাঠানোর ঘোষণা ছিল বাস্তবসম্মত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন বোয়েসেলের মাধ্যমে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায় কর্মী পাঠানো হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা অনেকাংশে কমে গেছে।
অন্যদিকে, পুরোনো শ্রমবাজারগুলোতেও সংকোচন দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই প্রবণতা স্পষ্ট। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ কমেছে ২৩ শতাংশ।
নতুন বাজারে প্রবেশেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে কোটা কমছে এবং ফিলিপাইন, নেপাল ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টে বাংলাদেশ আবারও “ওয়াচলিস্ট”-এ পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বায়রার এক নেতা বলেন, “কয়েকজনের অনিয়মের দায়ে পুরো খাত বিপর্যস্ত। লাইসেন্স নবায়নে জটিল শর্ত, মামলা ও আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতায় বৈধ ব্যবসার পথ রুদ্ধ হচ্ছে।”
দুদক ও সিআইডি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তদন্তে প্রমাণ মিললেই কেবল মামলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রম রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই।
সিএনআই/২৫