
বাংলাদেশের চারটি ফুটবল ক্লাবের ওপর ফিফা দশটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও বসুন্ধরা কিংসের নামও রয়েছে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার মোহামেডানের ওপর খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা। ২০২২-২৩ মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে খেলা ইরানি ফুটবলার মাইসেম শাহ জাদেহ ফিফার কাছে অভিযোগ করেন যে, তাকে বকেয়া পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ফিফা তিন মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে ক্লাবটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়বে।
মোহামেডানের পাশাপাশি বসুন্ধরা কিংসের ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ক্লাবটির খেলোয়াড় নিবন্ধন স্থগিত করে ফিফা। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও চারটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, প্রতিটির মেয়াদ তিন মাস। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী দলবদলে নতুন কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে না বর্তমান প্রিমিয়ার লিগের পরাশক্তি বসুন্ধরা কিংস।
এর আগে ২০২২ সালের ২ আগস্ট ফেনী সকার ক্লাবের ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবটি কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে না। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ওপর তিনটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার প্রতিটির মেয়াদ তিন মাস। সাধারণত এ ধরনের শাস্তি সতর্কতামূলক হয় এবং নির্ধারিত সময়ে বকেয়া পরিশোধ করলে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রতি আর্থিক দায়বদ্ধতা পালন করতে হয়। নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নিয়মিতভাবে ক্লাব প্রতিনিধিদের এসব নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নিলেও অনেক ক্লাব তাতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা বাড়ছে, বাড়ছে নিষেধাজ্ঞার সংখ্যাও।
বর্তমানে ফিফার আরোপিত দশটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে থাকা ক্লাব দুটি—মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস। বাকি দুটি, ফেনী সকার ক্লাব ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, ঘরোয়া শীর্ষ লিগে নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মনীতি উপেক্ষা ও পেশাদার ক্লাব ব্যবস্থাপনার অভাবই এসব সমস্যার মূল কারণ। সময়মতো খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধ ও চুক্তিপালন না করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবল আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
সিএনআই/২৫