
বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি সনদ বাস্তবায়নের সাম্প্রতিক সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গণভোটের বিধানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এনসিপি নেতারা মনে করেন, জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলনের সুযোগ তৈরি করবে এই গণভোট।
দলটি আশা করছে, সনদের আদেশ ‘সরকার’-এর বদলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে জারি হবে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করবে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “ভিন্নমত কার্যকর না রাখা এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে গণভোটের বিধান রাখাটা ইতিবাচক পদক্ষেপ।” উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, সনদের ভাষাগত অস্পষ্টতা দূর করার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আমরা নিশ্চিত হতে চাই, আদেশ প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকেই জারি হবে।”
এনসিপি নেতারা আরও জানান, জুলাই সনদের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তারা স্বাক্ষর করবে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরের মতো প্রতারণার পুনরাবৃত্তি তারা চান না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। নভেম্বরের মধ্যে ১০০ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে নেতারা জানিয়েছেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তারা বলছেন, জুলাই সনদের সংস্কার, শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা, এবং ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থান—এসব নীতিতে যারা একমত, কেবল তাদের সঙ্গেই নির্বাচনী সমঝোতা সম্ভব।
সিএনআই/২৫