
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ দুই নেতার বৈঠক ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা এখন বেশ অতিমাত্রায় আশাবাদী মনে হচ্ছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বুদাপেস্টে “দুই সপ্তাহের মধ্যেই” বৈঠক করবেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি অর্থহীন বৈঠক করতে চাই না। সময় নষ্ট করতে চাই না।” এই অনিশ্চয়তাই এখন ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের সর্বশেষ ধাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেল সপ্তাহে মিশরে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি উদযাপনকালে ট্রাম্প তার প্রধান কূটনীতিক স্টিভ উইটকফকে উদ্দেশ করে বলেন, “এখন আমাদের রাশিয়ার বিষয়টা মীমাংসা করতে হবে।” তবে গাজার মতো অনুকূল পরিবেশ ইউক্রেনে তৈরি করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
উইটকফের মতে, গাজা চুক্তি সফল হয়েছিল মূলত ইসরায়েলের এক কৌশলগত ভুলের কারণে—কাতারে হামাস প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা। এতে আরব মিত্ররা ক্ষুব্ধ হয় এবং নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পথ খুলে দেয়।
ইসরায়েলে এখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি, আরব দেশগুলোর সঙ্গেও তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তিনি প্রভাব বিস্তারে সফল হলেও, ইউক্রেনে তার সে ধরনের পরিসর নেই।
গত নয় মাস ধরে ট্রাম্প পুতিন ও জেলেনস্কি—দুজনকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন, কখনো চাপের মাধ্যমে, কখনো সমঝোতায়। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ নয়। রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র দেওয়ার হুমকি দিলেও বুঝতে পেরেছেন, এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে পড়তে পারে।
এ সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে জেলেনস্কির সমালোচনা করেন এবং সাময়িকভাবে ইউক্রেনে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ রাখেন। তবে ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগে পরে আবার সেই অবস্থান থেকে পিছু হটতে হয় তাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন ট্রাম্পের ‘চুক্তিপ্রিয়তা’ ও সরাসরি আলোচনার প্রতি দুর্বলতাকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করছেন। ট্রাম্প প্রায়ই নিজের “ডিলমেকিং স্কিল” নিয়ে গর্ব করেন, কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুতে তা কার্যকর হয়নি।
সম্প্রতি তিনি বুদাপেস্টে এক সম্মেলনের ঘোষণা দিলেও, বৈঠকটি বাতিল হয়, আর জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক শেষ হয় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরে মন্তব্য করেন, “দূরপাল্লার অস্ত্রের সম্ভাবনা হারানোর মুহূর্তে রাশিয়া কূটনীতিতে আগ্রহ হারায়।”
অবশেষে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানান, কিন্তু রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচনী প্রচারে যুদ্ধ কয়েক ঘণ্টায় শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তিনি স্বীকার করছেন—ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো তার ধারণার চেয়ে অনেক কঠিন।
সিএনআই/২৫