উপহারের ফ্ল্যাট নিয়ে বিতর্ক, মন্ত্রিত্ব হারানোর শঙ্কায় টিউলিপ সিদ্দিক
লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার অভিযোগ এবং তা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই কেলেঙ্কারির জেরে তার মন্ত্রিত্ব হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এই খবর প্রকাশ করেছে।
অভিযোগের বিস্তারিত
ডেইলি মেইলের সহযোগী দ্য মেইল অন সানডে জানায়, টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হয়েছিল, লন্ডনের কিংস ক্রস এলাকার দুই শয্যার একটি ফ্ল্যাট (যার বাজার মূল্য প্রায় ৭ লাখ পাউন্ড) তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন কিনা। অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্ল্যাটটি তার বাংলাদেশি খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচিত এক ডেভেলপার তাকে উপহার দিয়েছেন।
জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তার বাবা-মা ওই ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন। পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
তবে লেবার পার্টির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্ল্যাটটি একজন ডেভেলপার তাকে ‘‘কৃতজ্ঞতাস্বরূপ’’ দিয়েছিলেন।
তদন্তের তথ্য
দ্য মেইল অন সানডে আরও জানায়, লন্ডনের ভূমি রেজিস্ট্রি রেকর্ড অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ২০০৪ সালের নভেম্বরে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে নিবন্ধিত হয়। সেসময় তিনি সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করেছিলেন এবং তার নিজস্ব কোনো উপার্জন ছিল না। ফ্ল্যাটের জন্য কোনো মর্টগেজ বা ক্রয়মূল্যের তথ্য রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালে মেইল অন সানডে এই বিষয়ে জানতে চাইলে লেবার পার্টি এক ই-মেইলে জানায়, টিউলিপের বাবা-মা তাদের পারিবারিক বাড়ি বিক্রির অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তবে সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধানে সেই সময় বা তার আগে টিউলিপ সিদ্দিকের পরিবারের কোনো বাড়ি বিক্রির প্রমাণ মেলেনি।
রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনা
টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে পদত্যাগের দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।
কনজারভেটিভ দলের এমপি বব ব্ল্যাকম্যান বলেছেন, “টিউলিপ সিদ্দিককে তার সম্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। তা না হলে মন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান আর গ্রহণযোগ্য থাকবে না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ছায়ামন্ত্রী ম্যাট ভিকার্স বলেছেন, “সরকারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য। টিউলিপ সিদ্দিক স্টারমারের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রী হওয়ায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়েছে।”
লেবার পার্টির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টিউলিপের পরিবারের দাবি ও ঘটনার প্রমাণের মধ্যে অনেক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, যা এই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এই বিতর্ক এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি লেবার পার্টি ও টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও ব্যাখ্যার ওপর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।