বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল।
এ মন্তব্য তিনি বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সন ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষাবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, এসসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান, এবং আরও অনেকেই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর এ বি এম রেজাউল করীম।
আজ (১ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে স্কুলগুলোর কাছে বই পৌঁছানো হয়েছে, এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছেন। প্রথম দিনেই প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই ও মাধ্যমিকের তিনটি আবশ্যিক বই বিতরণ করা হয়।
এছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা দিতে আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।
শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে নতুন বছরে মোট ৪০ কোটি ১৬ লাখ বই ছাপানো হবে। ছাপার বাজেটও বৃদ্ধি পাবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান জানান, পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনে বিতর্কিত, ভ্রান্ত বা অতিরঞ্জিত কনটেন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুনভাবে সঠিক ইতিহাস, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ করে, বাংলা পাঠ্যবইয়ের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সংযোজন করা হয়েছে, যেমন পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয় "আমরা তোমাদের ভুলব না", ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বিষয় "কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের ভাষা", এবং সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয় "সিঁথি" কবিতা। এছাড়াও, পাঠ্যবইয়ের ব্যাক কভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সম্পর্কিত গ্রাফিতি সংযোজন করা হয়েছে।