বায়ুদূষণ: বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ
বায়ুদূষণ বর্তমানে বিশ্বের জন্য একটি মারাত্মক সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী শহরগুলোর বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। এর ফলে মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর মৃত্যুঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনবহুল শহর ঢাকাও এর ব্যতিক্রম নয়; এখানকার বাতাসে দূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঢাকার অবস্থান বায়ুদূষণের তালিকায় তৃতীয়
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বায়ুদূষণের তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২১৭। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি (২১৪), এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যার স্কোর ২০৮। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীনের উহান (২০৮) এবং পঞ্চম অবস্থানে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় (১৯৫)।
ঢাকার বায়ুর অবস্থা
আইকিউএয়ারের তথ্যানুসারে, ঢাকার বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আইকিউএয়ার ও একিউআই সূচক
আইকিউএয়ার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যা নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের মান পর্যবেক্ষণ করে। তারা একিউআই সূচকের মাধ্যমে একটি শহরের বায়ু কতটা নির্মল বা দূষিত তা নির্ধারণ করে।
একিউআই স্কোরের মানদণ্ড:
৫১-১০০: মাঝারি বা গ্রহণযোগ্য।
১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
১৫১-২০০: সাধারণ মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর।
২০১-৩০০: খুবই অস্বাস্থ্যকর।
৩০১-এর বেশি: ঝুঁকিপূর্ণ।
বায়ুদূষণের প্রভাব ও করণীয়
বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার, শিল্পকারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি প্রবর্তন এবং সবুজায়নের উদ্যোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব। এটি শুধু ঢাকার নয়, বিশ্বব্যাপী সব শহরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।