৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ হাইকোর্টের

শেয়ার করুন

অভিনেত্রী জয়া আহসানসহ কয়েকটি সংস্থার করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পাশাপাশি দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ জারি করেন। অভয়ারণ্য বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী জয়া আহসানের যৌথভাবে দায়ের করা রিট পিটিশনে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, ঘোড়ার মাংস এবং রোগাক্রান্ত পশুর মাংসের অবৈধ জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, আর তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার সাকিব জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তিনি বলেন, প্রাণীগুলো প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকার সংক্রমণ, টিউমারে রোগে ভুগছিল। এই দূষিত মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।

515683034_1319826332843290_9015102671559265648_n

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন কারখানায় গড়ে ওঠা অবৈধ জবাইখানার সন্ধান মেলে। সেখান থেকে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়া এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতার অভাব ছিল বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন