২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯ সমুদ্রে ‘চিরস্থায়ী তাপপ্রবাহের’ শঙ্কা, বড় বিপদের সতর্কবার্তা!

শেয়ার করুন

বিশ্বের অন্তত ১৯টি সমুদ্রে চিরস্থায়ী তাপপ্রবাহের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব সমুদ্র অঞ্চলে ভবিষ্যতে বছরের বড় একটি অংশজুড়ে উচ্চ তাপমাত্রার পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে পানির শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

গবেষকদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে সমুদ্রের ভেতরের জীবজগৎ ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে।

জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর বাল্টিক সি রিসার্চ ওয়ারনেমুন্ডে-র সমুদ্রবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস গ্রোগারের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৯টি সমুদ্র নিয়ে জলবায়ু মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ সাময়িকীতে।

গবেষণায় ভূ-মধ্যসাগর, বাল্টিক সাগর, মেক্সিকো উপসাগর, লোহিত সাগরের মতো স্থলবেষ্টিত সমুদ্রগুলোতে তাপের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। ‌স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা লবণাক্ত পানির বিস্তীর্ণ অঞ্চল এসব সমুদ্র।

উন্মুক্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাগুলোর তুলনায় এরা ছোট ও অগভীর। ভৌগোলিক এই গঠন এবং অবস্থানের কারণেই সমুদ্রগুলোতে স্থায়ী তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সমুদ্রে তাপপ্রবাহ স্থায়ী হয়ে যাওয়ার অর্থ পানির স্রোতে তাপ আবদ্ধ হয়ে পড়া। অর্থাৎ, স্বাভাবিক নিয়মে সেখানে তাপপ্রবাহ হবে। তারপর পানি ঠান্ডা হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়াটি বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, কিছু কিছু সমুদ্রে বছরে ৩৩০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ চলতে পারে। এটি কোনো অস্থায়ী চরম অবস্থা নয়, বরং আবহাওয়ার নতুন স্থায়ী পরিস্থিতি!

সাধারণভাবে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ স্বল্পস্থায়ী হয়। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তা পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। তবে নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব আবদ্ধ সমুদ্রে ভবিষ্যতে বছরে ৩৩০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ চলতে পারে।

গবেষকদের দাবি, ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত হওয়ার কারণে তাপ এই সমস্ত সমুদ্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। প্রশান্ত বা আটলান্টিক মহাসাগরের মতো বিশাল জলরাশিতে যে তাপ ছড়িয়ে পড়ার কথা, তা সংকীর্ণ জলভাগে আটকে পড়ায় তাপপ্রবাহ স্থায়ী হতে শুরু করেছে। এই তাপ বেরোনোর কোনো পথ পাচ্ছে না। সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ প্রকৃতিগতভাবেই স্বল্পস্থায়ী হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এ পরিস্থিতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত দূষণ ও এরোসল দীর্ঘদিন সূর্যালোক প্রতিফলিত করে সাময়িকভাবে উষ্ণতা কিছুটা কমালেও পরবর্তী সময়ে উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আরও তীব্র করেছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দূষণের মাত্রা আর না বাড়লেও ২১০০ সালের মধ্যে অন্তত ১৯টির মধ্যে ১৫টি সমুদ্র প্রায় স্থায়ী তাপপ্রবাহের অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, হাডসন উপসাগর, ব্যারেন্টস সাগর, কারা সাগর ও ল্যাপটেভ সাগর সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

পরিসংখ্যানে বলা হয়, কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চলতি শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসব সমুদ্রের বড় অংশ বছরের বেশিরভাগ সময়ই তাপপ্রবাহের আওতায় চলে যেতে পারে।

স্থায়ী তাপের সম্ভাবনায় তাই বিপদের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, সমুদ্রের ভেতরে থাকা জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, এমন অবস্থায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নিলে এই প্রবণতা বৈশ্বিক সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সূত্র: আনন্দবাজার।

 

শেয়ার করুন