
দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই জেলায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেটে মারা গেছে ৩ শিশু এবং ময়মনসিংহে মৃত্যু হয়েছে আরও ১ জনের।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগে নতুন করে ৩ শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। একই সময়ে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯২ জন রোগী।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সেখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
শুধু সিলেট ও ময়মনসিংহ নয়, খুলনা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগেও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই রোগ আবারও ভয়ংকর রূপ নেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকাদান কার্যক্রমে অনিয়ম, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা। তারা দ্রুত গণসচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্তদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। অনেকেই হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অতিরিক্ত ভিড়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।