১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার
৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের মানবন্ধন

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই হবে”—এই দাবিতে শনিবার সকাল ৯টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগানের ফ্যাক্টরি গেটে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন শত শত চা শ্রমিক।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ক্যামেলিয়া হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে শমশেরনগর, কানিহাটি, বাঘীছড়া, দেওছড়া ও ডাবলছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত, শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানবন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গনেশ পাত্র। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি, শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন, নির্মল দাস পাইনকা, ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া, কিরন কুমার বৈদ্য, দিলিপ কৈরী, যুবনেতা সজল কৈরি সহ বিভিন্ন বাগানের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা জানান, গত ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক বাবুল রবিদাসের ১৩ বছরের মেয়ে ঐশী রবিদাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরদিন মারা যান। এরপর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে তারপর থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা বন্ধ করে দেয়, যা এখনো চালু হয়নি।

তাদের অভিযোগ, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় কমলগঞ্জ ও আশপাশের ৩৫টি চা বাগানের প্রায় এক লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার জরুরি চিকিৎসা, মাতৃসেবা, শিশু চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রামভজন কৈরি বলেন, “চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন, কিন্তু তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো অনিশ্চিত। দ্রুত হাসপাতাল না খুললে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”

কমলগঞ্জের ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা শিল্প অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো এখনো দুর্বল। ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু করা শুধু একটি কেন্দ্র খোলা নয়, হাজারো পরিবারের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

শেয়ার করুন