
আইনুল ইসলাম:
রাজনীতির মাঠে অনেকেই আলোচনায় আসেন বক্তৃতা, শোডাউন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে। আবার কিছু মানুষ আছেন, যারা নীরবে কাজ করে যান মানুষের জন্য, সংগঠনের জন্য, সমাজের জন্য। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও যাদের অবদান ধীরে ধীরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। মৌলভীবাজারের তরুণ ছাত্রনেতা ইহাম মোজাহিদ তেমনই এক নাম।
শান্ত স্বভাব, পরিমিত কথাবার্তা এবং দায়িত্বশীল আচরণের কারণে ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে একজন মানবিক ও কর্মীবান্ধব মানুষ হিসেবেই তাকে বেশি পরিচিত তিনি। ছাত্ররাজনীতির নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজেও তার উপস্থিতি চোখে পড়ে নিয়মিত।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, ইহাম মোজাহিদ কখনো নিজেকে সামনে আনার চেষ্টা করেন না। বরং সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোনো কর্মসূচি সফল করতে তিনি যেমন পরিকল্পনা করেন, তেমনি মাঠপর্যায়ে থেকে কাজও করেন সমানভাবে। অনেক সময় দেখা যায়, বড় কোনো আয়োজনের পর সবাই যখন বিশ্রামে, তখনও তিনি ব্যস্ত থাকেন শেষ মুহূর্তের দায়িত্বগুলো সম্পন্ন করতে।
তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ তৈরি করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইহাম। তার বিশ্বাস, নেতৃত্ব মানে শুধু পদ-পদবি নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সংকটে সাহস দেওয়া এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা। এজন্য তিনি নিয়মিত তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনের সমস্যার কথাও শোনেন মনোযোগ দিয়ে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান কর্মসূচি কিংবা দুর্যোগকালীন সহায়তায় তাকে দেখা গেছে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে। অনেকেই বলেন, তিনি প্রচারের জন্য নয়, দায়িত্ববোধ থেকেই এসব কাজ করেন।
স্থানীয় তরুণদের একটি অংশ মনে করেন, বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের যে সংকট দেখা যাচ্ছে, সেখানে ইহাম মোজাহিদের মতো তরুণরা আশার জায়গা তৈরি করছেন। সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং ভিন্ন মতের মানুষদের প্রতিও সম্মান দেখানোর কারণে তিনি সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।
ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও তিনি বেশ সাদামাটা। কাছের মানুষদের মতে, ব্যস্ততার মাঝেও পরিবার ও বন্ধুদের সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বই পড়া, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতেই তার বেশি সময় কাটে।
অনেকে মনে করেন, একজন ছাত্রনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার কর্মে এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। সেই জায়গা থেকে ইহাম মোজাহিদ নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। তিনি হয়তো প্রতিদিন শিরোনামে আসেন না, বড় বড় বক্তব্যেও সরব নন; কিন্তু নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া একজন তরুণ সংগঠক হিসেবে ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন।
মৌলভীবাজারের তরুণ সমাজের কাছে ইহাম মোজাহিদ শুধু একজন ছাত্রনেতা নন, বরং দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং নীরব নেতৃত্বের এক প্রতিচ্ছবি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এমন নেতৃত্বই হয়তো সমাজ ও রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে তরুণ, পরিচ্ছন্ন ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ মুখ হিসেবে ইহাম মোজাহিদকে দেখতে চাচ্ছেন জেলার সচেতন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকা এই ছাত্রনেতা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
শিক্ষার্থীদের মতে, নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য মুখকে সামনে আনা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে ইহাম মোজাহিদ হতে পারেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব। তরুণদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ইতোমধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।