৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলার ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

শেয়ার করুন

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিহত ব্যক্তিদের সবার পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের তিনটি স্থানে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকায় দিনের বেলা ও রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পরদিন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

তিনি জানান, এসব ঘটনার মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জশিট) আগামী ৭ জুনের মধ্যে দাখিল করা হবে।

আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেছে এবং ঘটনাটি নিয়ে চলমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান এবং আরও অনেককে আসামি করা হবে বলেও জানান তিনি।

Hefajot2
সেদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৩ বছর আগে রাজধানীতে সংঘটিত আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত ৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছিলেন।

হেফাজতের অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্লগাররা ধর্মীয় অবমাননা ও হজরত মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে কটূক্তি এবং আপত্তিকর লেখালেখি করার প্রতিবাদে হেফাজত ইসলাম ১৩ দফা দাবি সরকারের কাছে দেয়। সরকার দাবি না মানায় ২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে রাস্তায় অবস্থান নেয় তারা। ওইদিন রাত ১১টা থেকে পরের দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে শেখ হাসিনার মদদে আসামিরা যোগসাজশে নিরীহ মাদরাসাছাত্র ও পথচারীদের ওপর গণহত্যা চালায়। তাদের হত্যা করে লাশগুলো সিটি করপোরেশনের গাড়িতে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে গুম করে। এসময় বহু মাদরাসাছাত্র হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা ও জিডি করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা নেয়নি।

শেয়ার করুন