
তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ, অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। যাদের ঘরে এসি বা কুলার নেই, তাদের একমাত্র ভরসা সিলিং ফ্যান। কিন্তু ঘর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ফ্যান থেকেও গরম বাতাস বের হতে থাকে। তবে চিন্তার কিছু নেই; সাধারণ কিছু ঘরোয়া কৌশল অবলম্বন করলেই আপনার ফ্যান দেবে এসির মতো আরামদায়ক ঠান্ডা বাতাস।
১. বরফের ব্যবহার
ফ্যানের নিচে একটি পাত্রে বা ট্রেতে কিছু বরফের টুকরো রাখুন। ফ্যানের বাতাস যখন এই বরফের সংস্পর্শে আসবে, তখন তা মুহূর্তেই ঠান্ডা হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। ছোট ঘরের জন্য এই পদ্ধতিটি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়।
২. ভেজা কাপড়ের কৌশল
একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় ভিজিয়ে ফ্যানের নিচে বা জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে দিন। বাতাস যখন এই ভেজা কাপড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হবে, তখন প্রাকৃতিকভাবেই তা শীতল হয়ে ঘরে প্রবেশ করবে। এটি অনেকটা প্রাকৃতিক কুলারের মতো কাজ করে।
৩. সঠিক বায়ুচলাচল ও পর্দা নিয়ন্ত্রণ
দিনের বেলা রোদের তাপ আটকাতে জানালা ও ভারি পর্দা বন্ধ রাখুন। সূর্যাস্তের পর জানালা খুলে দিন যাতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে আসতে পারে। ফ্যানটিকে এমনভাবে সেট করুন যাতে এটি ঘর থেকে গরম বাতাস বের করে দিয়ে বাইরের শীতল বাতাস টেনে নিতে পারে।
৪. মেঝে ও ছাদে পানি ছিটানো
ঘর ঠান্ডা রাখতে মেঝেতে পানি দিয়ে মুছে নিন বা হালকা পানি ছিটিয়ে দিন। এতে ঘরের আর্দ্রতা বাড়বে এবং ফ্যানের বাতাস শীতল অনুভূত হবে। এছাড়া সম্ভব হলে বিকেলে বা রাতে বাড়ির ছাদে পানি ছিটান, এতে ছাদের গরম ভাব কমে আসবে এবং ফ্যান ঠান্ডা বাতাস দেবে।
৫. ফ্যান পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ
ফ্যানের ব্লেডে ধুলা জমে থাকলে বাতাসের গতি কমে যায় এবং মোটর দ্রুত গরম হয়। তাই নিয়মিত ফ্যানের ব্লেড পরিষ্কার রাখুন। বাতাসের প্রবাহ উন্নত করতে প্রয়োজনে সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন।