২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাপপ্রবাহ ও লোডশেডিংয়ে খুলনায় চরম দুর্ভোগ, সংকটে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

এস এম শাহরিয়ার, খুলনা:

খুলনায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। দিনের দাবদাহের পর রাতেও মিলছে না স্বস্তি। অসহনীয় গরম ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার পরীক্ষার্থী তানভীর হাসান জানায়, ‘প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না।’

অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। খালিশপুরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার সময় এমন লোডশেডিং চলতে থাকলে বাচ্চাদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় তারা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে শিল্প খাতেও পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। নগরীর রূপসা শিল্পাঞ্চলের একটি কারখানার ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বাড়ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। খুলনায় ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এছাড়া মোংলা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও কয়রায়ও তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে। শুক্রবার সকালে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।

নগরীর দৌলতপুর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘এমন গরমে কাজ করা খুব কষ্টকর। যাত্রীও কমে গেছে। একবার যাত্রী নামানোর পর বিশ্রাম না নিলে আর চালানো যায় না।’

একই এলাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, ‘রোদে কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও কাজ করতে হচ্ছে।’

তার সহকর্মী শিউলি খাতুন জানান, দিনে প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন তারা। গরম থেকে বাঁচতে পানি পান ও শরীর ভেজানোই একমাত্র উপায়। লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। নগরীর এক গৃহকর্মী সালমা খাতুন বলেন, ‘দিনে-রাতে অনেকবার বিদ্যুৎ যায়। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না, কাজও করা যায় না।’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইমরান হোসেন বলেন, ‘অফিসে বিদ্যুৎ থাকলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর তথ্যে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং চলছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন