২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে নোবিপ্রবির সাফল্য

শেয়ার করুন

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) প্রকাশিত এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং ২০২৬-এ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ অর্জনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন সংস্থা Times Higher Education (THE) প্রতিবছরের মতো এবারও এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পখাতের আয়ের ভিত্তিতে এই র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের তালিকায় নোবিপ্রবির এ অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একাডেমিক অগ্রগতি ও গবেষণায় সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে স্কোপাস-ইনডেক্সে ৫৪৯টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যা দেশের অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য অর্জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

আইন বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী জাফর আহমেদ সজীব বলেন, “এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। আশা করি, ভবিষ্যতে নোবিপ্রবি আরও উচ্চ অবস্থানে যাবে। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে আর্টস ও কমার্সের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে, তাদের উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ইরফানুল হক বলেন, “এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আমরা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারব। একাডেমিক -৩ ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেবে।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এক অনলাইন বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই সাফল্য আপনাদের নিরন্তর পরিশ্রমের ফল এবং মেধার স্বীকৃতি। নোবিপ্রবি সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘র‌্যাঙ্কিং সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এই সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

উক্ত প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই অর্জন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা চাই, এই অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হোক। সে লক্ষ্যেই দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নোবিপ্রবিকে এগিয়ে নিতে বিশ্বমানের শিক্ষক ও গবেষকদের আকৃষ্ট করতে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে পেটেন্ট অর্জনের লক্ষ্যেও কাজ চলছে।

এ অর্জন নোবিপ্রবির অগ্রযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে প্রকাশিত, যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী Times Higher Education (টিএইচই) বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো নোবিপ্রবির অবস্থান ছিলাে ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডের মধ্যে।

শেয়ার করুন