
লাওস প্রতিনিধি, সাদ্দাম হোসেন:
প্রবাসের মাটিতে বাঙালি সংস্কৃতির সৌরভ ছড়িয়ে দিল লাওসে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি। নবনির্বাচিত কমিটির উদ্যোগে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।
অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন লাউস বাংলাদেশ কমিউনিটির নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল হক। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কমিটির সকল সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দিনের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি একখণ্ড বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় কুলো, পাখা, আলপনা ও বৈশাখী মোটিফে।
সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত, লোকগীতি, আবৃত্তি ও শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা। প্রবাসী শিল্পীরা “এসো হে বৈশাখ” গানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।
মধ্যাহ্নভোজে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ, বিভিন্ন রকমের ভর্তা, দেশীয় পিঠা-পুলি ও মিষ্টান্নের আয়োজন সকলকে দেশের স্বাদ এনে দেয়। বৈশাখী মেলায় হস্তশিল্প, শাড়ি ও বইয়ের স্টল বসে, যা প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল হক বলেন, “হাজার মাইল দূরে থেকেও আমরা বাঙালি। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের পরিচয়। নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় আয়োজন হিসেবে নববর্ষকে বেছে নিয়েছি, যাতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের সন্তানরা শিকড়ের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটিই আমাদের শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, লাওসে কর্মরত সকল বাংলাদেশিকে যেকোনো প্রয়োজনে কমিউনিটির পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে সকলকে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে লাওসে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত লাওসের স্থানীয় বন্ধুরাও বাঙালি সংস্কৃতির এই বর্ণিল উৎসব উপভোগ করেন। আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উপস্থিত সকলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
নববর্ষের এই আয়োজন প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব বাঙালির হৃদয়ের আবেগ ও সংস্কৃতিকে আলাদা করতে পারে না। লাওস বাংলাদেশ কমিউনিটির নর্ম কমিটির এই উদ্যোগ প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।