
শীত এলেই কাঁথা-কম্বলের উষ্ণতায় সময় কাটাতে ইচ্ছে করে বেশি। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার আগ্রহ কমে যায়, আর সঙ্গে যোগ হয় পিঠা-পায়েস আর ভাজাপোড়ার হাতছানি। ফলে অজান্তেই ওজন বাড়তে শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রেই শীতকাল মানে কয়েক কেজি বাড়তি ওজন।
এই সময়ে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।
শীতে ওজন বাড়ার প্রধান কারণ
শীতকালে ওজন বাড়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ কাজ করে—
-
বাইরে বের হওয়ার অনীহা
-
হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যাওয়া
-
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
-
পর্যাপ্ত পানি না পান করা
-
ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যাওয়া
এই অভ্যাসগুলো শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর উপায়
১. ঘরেই নিয়মিত ব্যায়াম করুন
জিমে যেতে না পারলেও ঘরে বসেই প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট ব্যায়াম করা সম্ভব। স্কোয়াট, পুশ-আপ, প্ল্যাঙ্ক বা স্ট্রেচিংয়ের মতো সহজ ব্যায়াম ক্যালরি পোড়াতে সহায়ক। চাইলে অনলাইন ভিডিও দেখে ব্যায়াম করতে পারেন।
২. খাবার বাছাইয়ে সচেতন হোন
শীতে খিদে বেশি লাগলেও কী এবং কতটা খাচ্ছেন, সেদিকে নজর দিন। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলুন। শীতের সবজি, ডাল, ডিম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। ছোট প্লেটে খাবার নিলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রাতের খাবার হালকা রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতে পিপাসা কম লাগলেও শরীরের পানির প্রয়োজন একই থাকে। পানি কম খেলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখুন।
৪. ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন
অনিয়মিত ঘুম ক্ষুধা বাড়ানো হরমোনকে সক্রিয় করে তোলে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। রাত জেগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
৫. ছোট ছোট নড়াচড়ায় থাকুন সক্রিয়
ঘরে থাকলেও দীর্ঘ সময় শুয়ে বা বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটুন। ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটা, টিভি দেখার ফাঁকে স্ট্রেচিং বা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার—এমন ছোট অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় রাখে।
শীতকাল অলসতায় কাটানোর সময় নয়। সামান্য সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললেই এই সময়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ থাকা সম্ভব।
সিএনআই/২৫