২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানকে নামাজ শেখানো: দুনিয়া-আখেরাতের অফুরন্ত সওয়াব

শেয়ার করুন

সন্তানকে নামাজ শেখানো ও অভ্যস্ত করানো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইসমাইল (আ.)-এর প্রশংসা করে বলেন, সে তার পরিবারকে নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিত এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিল (সুরা মরিয়ম: ৫৫)। ইবনে কাসির (রা.) ব্যাখ্যা করেন, ইসমাইলের মর্যাদা এসেছে আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ়তা ও পরিবারকে ঈমান ও আমল শেখানোর কারণে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজেদের এবং পরিবারের লোকদের আগুন থেকে রক্ষা করো” (সুরা তাহরিম: ৬), যা পরিবারের জন্য সঠিক দিক নির্দেশনার মাধ্যমে মুক্তির পথ নির্দেশ করে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, সাত বছর বয়সে শিশুদের নামাজের নির্দেশ দেওয়া উচিত, আর দশ বছর হলে তাদের তাগিদ বা দণ্ডের মাধ্যমে অভ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। শোয়ার জায়গা আলাদা করার সুন্নতও অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশুকে নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করা সম্ভব হয়।

পারিবারিক ইবাদতের ফজিলতও অনেক বড়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যারা রাতে উঠে নিজের নামাজ আদায় করে এবং স্বামী/স্ত্রীকে জাগিয়ে নামাজে অংশগ্রহণ করায়, আল্লাহ তাদেরকে স্মরণকারী বানান। মৃত্যুর পরও সন্তানের নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে বাবা-মায়ের সওয়াব অব্যাহত থাকে। হাদিসে উল্লেখ আছে, মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব বন্ধ হয়: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান, এবং নেক সন্তানের দোয়া।

রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করেছেন, প্রত্যেককে অধীনস্থদের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। নারী স্বামী ও সন্তানদের তত্ত্বাবধায়িকা; পরিবারের ইবাদত ও নৈতিকতার অবহেলা সরাসরি জবাবদিহির বিষয়।

বাবা-মায়ের প্রথম কাজ হলো নিজের আদর্শ স্থাপন। সন্তান অনুকরণ করে শেখে, তাই নামাজের আদর্শ প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে সাত বছর বয়সে নির্দেশনা দেওয়া, দশ বছর বয়সে নিয়মিত অভ্যাস নিশ্চিত করা এবং কৈশোরে আত্মসমর্পণ ও স্বচ্ছন্দে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা উচিত।

সন্তানকে নামাজি করা কেবল দায়িত্ব নয়; এটি চিরস্থায়ী বিনিয়োগ। দুনিয়ায় পারিবারিক শান্তি, সম্মান ও বরকত দেয়, আখেরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে এবং মৃত্যুর পরও সওয়াব অব্যাহত থাকে। বাবা-মা আজ থেকেই সন্তানকে ধাপে ধাপে নামাজ শেখানো শুরু করুন এবং নিয়মিত দোয়া করুন।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন