দেশের ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও বড় অঙ্কের আমানত বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি, যা আগের বছরের ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টির তুলনায় ১০ হাজার ৯৪৩ বেশি। এটির বৃদ্ধির হার ৯.৩৪ শতাংশ।
সব উপখাতে আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা কমে ৯৬৮ থেকে ৮৯৪-এ নেমেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধির কারণে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বেড়েছে। তবে দেশে কেবল কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবই অন্তর্ভুক্ত থাকায় কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।
তিন প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে ১.৭৩ শতাংশে নেমেছে। জানুয়ারি-মার্চে আমানত বেড়েছিল ২.১১ শতাংশ এবং এপ্রিল-জুনে ৩.৮০ শতাংশ। একই সময়ে গ্রাহকদের চলতি হিসাবের আমানতও প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
ঋণের প্রবৃদ্ধি শহরে বেড়েছে, কিন্তু গ্রামে কমেছে। জানুয়ারি-মার্চে গ্রামে ঋণপ্রবাহ ছিল ০.৩৪ শতাংশ, এপ্রিল-জুনে কমে ৪.৩৫ শতাংশ এবং জুলাই-সেপ্টেম্বরে ০.৬২ শতাংশে নেমে আসে। মেয়াদি আমানত ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাংকের সার্বিক তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থপাচার কমায় ব্যাংকে টাকা ফেরত এসেছে। আগের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় কিছু গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে টাকা তুলে নিয়েছিলেন। এখন পরিস্থিতি বুঝে তারা আবার ব্যাংকে অর্থ জমা করছেন, যার ফলে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে।”
সিএনআই/২৫