৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্যাফোডিল–সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে অর্ধশত আহত

শেয়ার করুন

সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর-দুর্নীতি ঘটেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ব্যাচেলরপ্যারাডাইস হোস্টেলের সামনে মটরসাইকেল থেকে থুতু ফেলে তা ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর পড়ে। এরপর দু’পক্ষের তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে রাত প্রায় ৯টায় সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুমানিক ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশি অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের হোস্টেলে হামলা চালায়। কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ড্যাফোডিলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। সংঘর্ষ রাত ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে। সংঘর্ষের সময় ড্যাফোডিলের প্রক্টরিয়াল টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট হয় এবং তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেটকার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আরও পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের সময়ে আতঙ্ক তৈরি করতে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দলীয়ভাবে লুট-তামাশা ও অগ্নিসংযোগের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে—শরীরিক ও চাকচিক্য Verletzungen—ও অনেকেই বিভিন্ন রকম আঘাত পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় তিন-চার ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা খুব সীমিত ছিল এবং পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া যায়নি; তাতে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান বিচ্ছিন্ন বিবাদগুলো ক্রমে ধ্বংসাত্মক রূপ নিচ্ছে এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের (পুসাব) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারা ঘটনার নিন্দা করে জানিয়েছে—শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ধরণের উগ্রতা গ্রহণযোগ্য নয়; উভয়পক্ষের দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং অপরাধকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। পুসাব আরও জানিয়েছে, রাতে ড্যাফোডিলের কিছু শিক্ষার্থীকে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে—যা ঘটনার উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের হামলা-প্রতিহামলা ও ভাঙচুরে উভয়পক্ষের উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার তৎপরতায় পুলিশ ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে—আপডেটে পুলিশ সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান বলেছেন যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনার পরে শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক স্তরে বিবেচনা ছাড়া এই ধরনের সহিংসতা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে; উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত বিবেচনায় দ্রুত ও ন্যায্য তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন