
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)—এক অনন্য সাহাবির জীবনী
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবিদের একজন। তিনি মক্কায় আবরাহার হস্তী বাহিনীর ঘটনার ১০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ইসলামের প্রথমিক দিনগুলোতেই ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণ ও প্রাথমিক জীবন
ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। মক্কার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন আবু বকর (রা.)-এর নিয়মিত সঙ্গী। আবু বকর (রা.)-এর প্রথম দাওয়াতেই তিনি এবং আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন।
দ্বৈত হিজরতকারী (সাহিবুল হিজরাতাইন)
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-কে “সাহিবুল হিজরাতাইন” বলা হয়, কারণ তিনি হাবশা এবং মদিনা—উভয় জায়গাতেই হিজরত করেছিলেন। তিনি বদর, উহুদ, খন্দক, তাবুকসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও ব্যবসার শুরু
মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সাদ ইবনে রাবি (রা.)-এর সঙ্গে স্থাপন করেন। সাদ (রা.) তাঁর সম্পদ ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন এবং এমনকি নিজের স্ত্রীদের একজনকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে বলেছিলেন। কিন্তু আব্দুর রহমান (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করে কেবল বাজারের পথ চেয়ে নেন।
বাজারে ঘি ও পনিরের ব্যবসা শুরু করেন তিনি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সফল হন। পরে এক আনসারী নারীকে বিয়ে করেন এবং রাসূল (সা.)-এর নির্দেশমতে ওয়ালিমার আয়োজন করেন।
দানশীলতার নজির
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন অসাধারণ দানশীল। নবম হিজরির তাবুক যুদ্ধে তিনি রাসূল (সা.)-এর ডাকে সাড়া দিয়ে বিপুল সম্পদ দান করেন। তিনি আট হাজার দিনার রাসূল (সা.)-এর হাতে তুলে দেন।
মুনাফিকদের কানাঘুষা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি
তাঁর দানের ব্যাপারে মুনাফিকরা কটাক্ষ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তাঁকে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, “এতো সেই ব্যক্তি যার ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হতে থাকে।” (সূরা তাওবা: ৭১)
পরিবারের দায়িত্ব ও উত্তম পরিকল্পনা
তাঁর বিপুল দানের পর ওমর (রা.) উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, হয়তো তিনি তাঁর পরিবারের জন্য কিছুই রাখেননি। কিন্তু আব্দুর রহমান (রা.) উত্তরে জানান যে, তিনি তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে উত্তম জিনিস রেখেছেন—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতিশ্রুত রিজিক ও কল্যাণ।
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন ইসলামের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় দানের, ত্যাগের, ব্যবসার সাফল্যের এবং আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার উদাহরণ হয়ে আছে। ইসলামের পথে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয়।