
সিরিয়ায় চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে তুরস্কের সফলতা সত্ত্বেও, একটি ভিন্ন উপকারভোগী দেশ হিসেবে ইসরায়েল দৃশ্যপটে উঠে এসেছে। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারের দুর্বলতা ও সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোলান মালভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রভাব বাড়াতে থাকে।
ইসরায়েলের কৌশলগত পদক্ষেপ:
তুরস্ক যখন সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহীদের নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইসরায়েল অন্য একটি আঞ্চলিক খেলায় মনোযোগ দেয়। তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধী তুরস্কের প্রতিপক্ষ গ্রিসের সঙ্গে জোট গড়ে তোলে। সম্প্রতি গ্রিস ও ইসরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছে, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক জ্বালানি খাতে নতুন গতি আনা।
গ্রিস-ইসরায়েল চুক্তি:
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি ইসরায়েল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে “গ্রিন ইলেকট্রিসিটি” সরবরাহে সহায়তা করবে। গ্রিসের পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী থোডোরোস স্কাইলাকাকিস এবং ইসরায়েলের জ্বালানি ও অবকাঠামো মন্ত্রী এলি কোহান এই চুক্তি সই করেন। এতে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
বিলম্বিত চুক্তি:
গেল মাসে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও, লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন হলে, এটি ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
আঞ্চলিক প্রভাব:
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ শুধু তাদের জ্বালানি রফতানি বৃদ্ধি করবে না, বরং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। তুরস্কের সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং বিদ্রোহীদের সমর্থনের পটভূমিতে ইসরায়েলের এই উদ্যোগ একটি ভিন্ন ধরনের ক্ষমতার খেলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।